লোড হচ্ছে...
⭐ সোনার দাম LIVE
সোনা ২২ ক্যারেট: ৳2,34,038/ভরি    |    সোনা ২১ ক্যারেট: ৳2,23,541/ভরি    |    সোনা ১৮ ক্যারেট: ৳1,91,931/ভরি    |    রূপা: ৳4,899/ভরি    |   
ছেলেদের গলায় চেইন পরা কি হারাম জেনে নিন

ছেলেদের গলায় চেইন পরা কি হারাম জেনে নিন

ছেলেদের গলায় চেইন পরা কি হারাম? এই প্রশ্নটি আজকাল অনেক তরুণের মনেই ঘুরপাক খায় বিশেষ করে যখন ফ্যাশন ট্রেন্ড আর ধর্মীয় বিধানের মাঝে একটা টানাপোড়েন তৈরি হয়। সরাসরি উত্তর দিতে গেলে বলতে হয় হ্যাঁ, ইসলামী শরিয়াহ মতে ছেলেদের গলায় চেইন পরা হারাম। কারণ গলার চেইন বা মালা মূলত নারীদের অলংকারের অন্তর্ভুক্ত আর পুরুষরা এটি পরলে তা নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বনের শামিল হয়ে যায় যা রাসুলুল্লাহ (সঃ) স্পষ্টভাবে নিষেধ করে গেছেন।

বাংলাদেশের সোনার দোকান আর জুয়েলারি শপগুলোতে গেলে দেখা যায়, অনেক তরুণ সোনার বা রূপার চেইন কিনতে আসেন কেউ ফ্যাশনের জন্য, কেউ আবার “রক্ষা কবচ” হিসেবে তাবিজের সাথে চেইন পরার উদ্দেশ্যে। কিন্তু এই বিষয়ে ইসলামের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট এবং এখানে কোনো দ্বিমতের সুযোগ নেই। এই আর্টিকেলে আমরা কোরআন-হাদিসের আলোকে বিস্তারিতভাবে জানব কেন এটি হারাম, কী কী ব্যতিক্রম আছে এবং রূপার আংটি সংক্রান্ত বিধান কী বলে।

ছেলেদের গলায় চেইন পরা কি হারাম?

হ্যাঁ, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ছেলেদের গলায় চেইন বা মালা পরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম। এর মূল কারণ হলো গলার চেইন বা যেকোনো ধরনের গলার অলংকার সাধারণত নারীদের সাজসজ্জার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। একজন পুরুষ যখন গলায় চেইন পরেন, তখন তিনি অজান্তেই নারীদের সাজসজ্জার অনুকরণ করছেন। আর ইসলামে এই ধরনের অনুকরণ বা সাদৃশ্য অবলম্বনকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

এখানে বিষয়টি শুধু “চেইন সোনার নাকি রূপার” তার উপর নির্ভর করে না। বরং মূল বিষয় হলো, চেইন নিজেই এমন একটি অলংকার যা পুরুষের পোশাক-পরিচ্ছদের স্বাভাবিক অংশ নয়। ফলে ধাতু যাই হোক না কেন সোনা, রূপা, স্টিল বা ইমিটেশন গলার চেইন পুরুষের জন্য জায়েজ নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন আলেমের কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি, এই বিষয়ে প্রায় সব মাযহাবের ফিকহবিদরাই একমত যে পুরুষদের গলার চেইন পরিধান নারী সাদৃশ্যের কারণে নিষিদ্ধ।

কেন গলার চেইন পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ হাদিসের আলোকে

ইসলামে নারী-পুরুষের সাজসজ্জা ও পোশাকের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেওয়া হয়েছে আর এই সীমারেখা লঙ্ঘন করাকে রাসুলুল্লাহ (সঃ) কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন। সহীহ বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসুল (সঃ) নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষদের ও পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সঃ) মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদেরকে অভিশাপ করেছেন (বুখারী)।

এছাড়া আবূ দাঊদ শরীফে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সঃ) সেই পুরুষকে অভিসম্পাত করেছেন যে নারীর পোশাক পরে এবং সেই নারীকে অভিসম্পাত করেছেন যে পুরুষের পোশাক পরিধান করে। এই হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, লিঙ্গভিত্তিক পোশাক ও অলংকারের সীমারেখা অতিক্রম করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয় হিসেবে গণ্য।

এই মূলনীতির ভিত্তিতেই ফিকহবিদরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, গলার চেন, কানের দুল, হাতের বালা এই ধরনের অলংকার যেহেতু সাধারণত নারীদের ব্যবহারের জন্য প্রচলিত, তাই পুরুষরা এগুলো পরিধান করতে পারবেন না। ঠিক যেমন নারীরা পুরুষদের মতো প্যান্ট-শার্ট পরতে পারেন না। কারণ তাতে পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বন হয়ে যায় একইভাবে পুরুষরাও নারীদের নির্দিষ্ট অলংকার পরিধান করতে পারেন না।

পুরুষদের জন্য সোনা ছাড়া অন্য ধাতুর চেন পরা কি বৈধ?

না, সোনা ছাড়া অন্য কোনো ধাতুর চেইনও পুরুষদের জন্য বৈধ নয়। অনেকেই মনে করেন, সোনার চেইন হারাম হলেও রূপা, স্টিল বা অন্য কোনো ধাতুর চেইন হয়তো পরা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। ইসলামী ফিকহবিদদের মতে, গলার চেইন হারাম হওয়ার মূল কারণ এর ধাতু নয় বরং এটি একটি নারীসুলভ অলংকার হওয়া।

অর্থাৎ সোনার চেইন যেমন দুটি কারণে নিষিদ্ধ একদিকে পুরুষদের জন্য সোনা ব্যবহার হারাম, অন্যদিকে এটি নারী সাদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত তেমনি রূপা বা অন্য ধাতুর চেইন শুধুমাত্র নারী সাদৃশ্যের কারণেই হারাম হয়ে যায়। ফলে ধাতু পরিবর্তন করলেও বিধান পরিবর্তন হয় না। বাংলাদেশে অনেক তরুণকে দেখা যায় স্টিল বা কালো সুতার সাথে ধাতব লকেটযুক্ত চেইন পরতে,এই ভেবে যে এটি “শুধু ফ্যাশন” কিন্তু ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এটিও একই বিধানের আওতায় পড়ে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বোঝা দরকার ইসলামে পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু অলংকার সীমিত পরিসরে অনুমোদিত, যেমন রূপার আংটি। কিন্তু আংটি ও চেইনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আংটি পুরুষদের জন্য ঐতিহাসিকভাবেও একটি স্বীকৃত ও প্রচলিত অলংকার ছিল রাসুলুল্লাহ (সঃ) নিজেও রূপার আংটি পরিধান করতেন। কিন্তু গলার চেইন কখনোই পুরুষদের জন্য প্রচলিত বা স্বীকৃত অলংকার হিসেবে বিবেচিত হয়নি।

রূপার আংটি কি পুরুষদের জন্য জায়েজ?

হ্যাঁ, নির্দিষ্ট পরিমাণ ও শর্তসাপেক্ষে রূপার আংটি পুরুষদের জন্য জায়েজ এবং এটিই একমাত্র ব্যতিক্রম যা ইসলামী ফিকহে স্বীকৃত। ইসলামী ফিকহ ও ফতোয়া অনুযায়ী, পুরুষরা একটি রূপার আংটি পরতে পারেন তবে তার ওজন সাধারণত এক মিসকাল বা প্রায় সাড়ে চার গ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয় বলে অধিকাংশ ফিকহবিদ মত দিয়েছেন। এই সীমার মধ্যে থাকলে রূপার আংটি ব্যবহার করা সুন্নত অনুযায়ী অনুমোদিত।

তবে এই অনুমতি শুধুমাত্র আংটির জন্য প্রযোজ্য রূপার চেইন, ব্রেসলেট বা অন্য কোনো অলংকারের জন্য এই ছাড় প্রযোজ্য নয়। অনেকেই এই বিষয়ে বিভ্রান্ত হন এবং মনে করেন। যেহেতু রূপার আংটি জায়েজ, তাই রূপার তৈরি অন্য যেকোনো অলংকারও জায়েজ হবে। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। যে অলংকার সাধারণত মহিলাদের ব্যবহারের জন্য প্রচলিত তা পুরুষদের জন্য পরা বৈধ নয় তা সে যে ধাতুরই তৈরি হোক না কেন।

রূপার ব্রেসলেট নিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে। এই বিষয়ে বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট ইসলামিক ব্যাখ্যা জানতে আপনি ছেলেদের রুপার ব্রেসলেট পরা কি জায়েজ এই আর্টিকেলটি পড়ে দেখতে পারেন। যেখানে হাত-কব্জির অলংকার সংক্রান্ত বিধান আলাদাভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

সিলভার চেইন পরলে কি হবে? প্রচলিত ভুল ধারণা

বাংলাদেশের সমাজে একটি খুবই প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, “সোনা হারাম কিন্তু সিলভার বা রূপা তো পুরুষদের জন্য জায়েজ তাহলে রূপার চেইন পরলে সমস্যা কী?” এই ধারণাটি আংশিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে এবং এটি ইসলামী বিধানের একটি ভুল ব্যাখ্যা। বাস্তবে সিলভার বা রূপার চেইন পরলেও তা হারামই থেকে যায়, কারণ সমস্যাটি ধাতুতে নয় অলংকারের প্রকৃতিতে।

ঢাকার নিউমার্কেট বা বঙ্গবাজারের মতো এলাকার জুয়েলারি দোকানগুলোতে অনেক সময় দেখা যায়, বিক্রেতারা ক্রেতাদের বলেন “এটা তো সোনার না, রূপার এটা পরা যাবে।” এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে অনেক তরুণ না জেনে হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েন। প্রকৃতপক্ষে, ধাতুর ধরন পরিবর্তন করলেই অলংকারের মৌলিক প্রকৃতি বদলে যায় না। গলার চেইন সবসময়ই নারীদের সাজসজ্জার একটি চিহ্নিত অংশ তাই তা যে ধাতুরই হোক না কেন পুরুষদের জন্য অগ্রহণযোগ্য থেকে যায়।

একইভাবে, স্টেইনলেস স্টিল, টাইটানিয়াম বা ইমিটেশন জুয়েলারির চেইনও এই বিধানের বাইরে নয়। কিছু তরুণ মনে করেন এগুলো “আসল অলংকার নয়“, তাই পরা যাবে। কিন্তু যেহেতু এই ধরনের চেইন দেখতে ও ব্যবহারে গলার প্রচলিত অলংকারের মতোই তাই এখানেও নারী সাদৃশ্যের বিধান প্রযোজ্য হয়।

তাবিজ বা প্রয়োজনীয় কারণে চেইন পরার বিধান কী?

অনেকেই প্রশ্ন করেন, চিকিৎসাগত বা অন্য কোনো বিশেষ প্রয়োজনে গলায় চেইন-জাতীয় কিছু পরার অনুমতি আছে কিনা। এক্ষেত্রে উত্তর হলো, বিশুদ্ধ চিকিৎসাগত প্রয়োজন (যেমন মেডিকেল আইডি ট্যাগ যা জরুরি অবস্থায় রোগীর তথ্য জানাতে ব্যবহৃত হয়) ভিন্ন একটি বিষয়। তবে এক্ষেত্রেও অনেক আলেম বিকল্প ব্যবস্থা যেমন হাতের ব্যান্ড বা কার্ডের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার পরামর্শ দেন যাতে অলংকারসুলভ ধরন এড়ানো যায়।

তাবিজ পরার প্রসঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। সাধারণভাবে তাবিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ইসলামে কঠোর নীতিমালা রয়েছে বিশেষত যদি তাতে অস্পষ্ট ভাষা, শিরকি বাক্য বা অজানা বিষয়বস্তু থাকে তাহলে তা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তবে এই আর্টিকেলের মূল আলোচ্য বিষয় যেহেতু গলার চেইন, তাই এখানে মূল বার্তাটি হলো সাধারণ ফ্যাশন বা সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে গলায় চেইন পরার কোনো ইসলামসম্মত ভিত্তি নেই।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইসলামী স্কলাররা এই ব্যাপারে একমত যে, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া সাধারণ নিয়ম হলো পুরুষদের গলার চেইন সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা উচিত। যেকোনো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা, কারণ প্রতিটি ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।

কেন পুরুষদের জন্য নারী সাদৃশ্য এড়ানো এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইসলামে পুরুষ ও নারীর মধ্যে সাদৃশ্য এড়িয়ে চলার নির্দেশনা কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়—বরং এটি ইসলামী সমাজব্যবস্থার একটি মৌলিক ভিত্তি। আল্লাহ তাআলা পুরুষ ও নারীকে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতি, দায়িত্ব ও বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, এবং পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজসজ্জার ক্ষেত্রেও এই স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

যখন কোনো পুরুষ ইচ্ছাকৃতভাবে নারীদের সাজসজ্জা অনুকরণ করেন, তখন তা শুধু একটি ফ্যাশন সিদ্ধান্ত থাকে না—বরং তা আল্লাহর সৃষ্টিগত বিন্যাসের বিরুদ্ধে একটি অবস্থান হয়ে দাঁড়ায়। এই কারণেই হাদিসে এত কঠোর ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সঃ) এই বিষয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখাননি, বরং স্পষ্টভাবে অভিশাপের কথা উল্লেখ করেছেন—যা প্রমাণ করে বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সময়ে, ২০২৬ সালে এসেও, বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে অনেক মুসলিম তরুণ না বুঝেই বিভিন্ন ট্রেন্ড অনুসরণ করছেন। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামিক পোশাক ও অলংকারবিধি সম্পর্কে সচেতন থাকা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যাতে অজান্তে কোনো হারাম কাজে জড়িয়ে না পড়া যায়।

মূল কথা: নারী-পুরুষের সাদৃশ্য এড়ানো ইসলামের একটি মৌলিক নীতি, যা আল্লাহর সৃষ্টিগত বিন্যাস ও শালীনতার সাথে সম্পর্কিত।

ছেলেদের গলায় চেইন পরা নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ছেলেদের গলায় চেইন পরা কি হারাম?

হ্যাঁ, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী পুরুষদের গলায় চেইন পরা হারাম, কারণ এটি নারীদের সাজসজ্জার সাদৃশ্য বহন করে। ধাতু সোনা, রূপা বা অন্য যেকোনো কিছু হোক না কেন, এই বিধান একইভাবে প্রযোজ্য।

রূপার চেইন কি পুরুষের জন্য জায়েজ?

না, রূপার চেইনও পুরুষদের জন্য জায়েজ নয়। রূপার আংটির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকলেও গলার চেইনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই, কারণ চেইন নিজেই একটি নারীসুলভ অলংকার হিসেবে বিবেচিত।

সিলভার চেইন পরলে কি গুনাহ হবে?

হ্যাঁ, সিলভার বা রূপার চেইন পরলেও তা গুনাহের কাজ হিসেবে গণ্য হবে, কারণ ধাতু পরিবর্তন করলেও অলংকারের প্রকৃতি বদলায় না।

পুরুষদের জন্য সোনা ছাড়া অন্য ধাতুর চেন পরা কি বৈধ?

না, সোনা ছাড়া স্টিল, টাইটানিয়াম, রূপা বা অন্য যেকোনো ধাতুর চেইনও পুরুষদের জন্য অবৈধ, কারণ সমস্যাটি ধাতুতে নয়, অলংকারের ধরনে নিহিত।

পুরুষদের জন্য কোন অলংকার জায়েজ?

ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী পুরুষদের জন্য শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ওজনসীমার মধ্যে একটি রূপার আংটি পরার অনুমতি রয়েছে। এর বাইরে গলার চেইন, কানের দুল, হাতের বালা ইত্যাদি অলংকার পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ।

চেইনে লকেট বা তাবিজ ঝুলিয়ে পরলে কি বিধান আলাদা হবে?

না, লকেট বা তাবিজ যুক্ত থাকলেও গলার চেইন পরার মূল বিধান পরিবর্তন হয় না। বরং তাবিজের বিষয়বস্তু অস্পষ্ট বা শিরকি হলে সেটি আলাদাভাবে আরও একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

ইমিটেশন বা নকল ধাতুর চেইন পরলে কি সমস্যা আছে?

হ্যাঁ, ইমিটেশন চেইনও একই বিধানের আওতায় পড়ে, কারণ এটি দেখতে ও ব্যবহারে প্রচলিত গলার অলংকারের মতোই এবং নারী সাদৃশ্যের বিধান এখানেও প্রযোজ্য হয়।

চেইন পরলে নামাজ হবে কি?

চেইন পরা অবস্থায় নামাজ আদায় করলে নামাজ বাতিল হয়ে যায় না, তবে হারাম কাজে লিপ্ত থেকে ইবাদত করা অবশ্যই কাম্য নয়। তাই নামাজের আগে চেইন খুলে ফেলা এবং ভবিষ্যতে তা পরিহার করাই শ্রেয়।

শেষ কথা

সবমিলিয়ে বলা যায়, ছেলেদের গলায় চেইন পরা কি হারাম এই প্রশ্নের উত্তর সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। কোরআন-হাদিসের আলোকে ও ফিকহবিদদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে বলা যায়, ধাতু যাই হোক না কেন? গলার চেইন পুরুষদের জন্য নারী সাদৃশ্যের কারণে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। একমাত্র ব্যতিক্রম হলো নির্দিষ্ট ওজনের রূপার আংটি, যা সুন্নত অনুযায়ী পুরুষদের জন্য অনুমোদিত।

✍️ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *